প্রকাশিত: Thu, Mar 7, 2024 10:54 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 2:21 AM

ভারতীয় দোকানদারদের অমর একুশে বইমেলায় স্পেস দেওয়া যাবে না

শোয়েব সর্বনাম: বাংলা একাডেমির অমর একুশে বইমেলার আয়োজন করে বাংলাদেশের প্রকাশক সমিতি। বাংলাদেশের প্রকাশকদের প্রকাশিত বই নিয়ে এই আয়োজন।  

এই মেলায় কলকাতার ব্যবসায়িরা ঢুকে পড়তে চাচ্ছে। নানাভাবে তারা চাপ প্রয়োগ করারও চেষ্টা করছে। এবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার স্টেজে তারা ঘোষণা দেয় যে, একুশে বইমেলায় তাদের স্পেস দেয়া না হলে কলকাতা বইমেলাতেও বাংলাদেশের স্টল রাখতে দেয়া হবে না। 

তাদের স্পর্ধা দেখে আমি বিস্মিত। 

বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে কোন আন্তর্জাতিক বইমেলা করে না। আগে জানুয়ারিতে করতো, বিভিন্ন দেশের পাবলিশাররা আসতো। সেই মেলা আবার চালু হলে সেখানে কলকাতার বই বেচার সুযোগ আছে। 

একটা জাতীয় আয়োজনে বিজাতীয় ব্যবসায়িদের স্পেস দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। 

আশির দশকের পর কলকাতায় আর কোন সাহিত্যিক নাই। সাহিত্যিক না থাকলে ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে, কলকাতার বাংলা ভাষা ইতিমধ্যে এক্সপায়ার হয়ে গেছে। কলকাতায় বাংলা ভাষাভাষি এখন হাতে গোণা, যারা বাংলা পড়েন বোঝেন। বাংলা সাহিত্যের ভাষা এখন বাংলাদেশের ভাষা।

তাইলে একুশে বইমেলায় আমরা ভারতীয় ব্যবসায়িদের কেন ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দিব? তাদের বই তো বইয়ের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। 

বাংলাদেশে তো সুনীল সমরেশের পর ভারতীয় বাংলা আর স্পেস পায় নাই। সমরেশের বই করছিল একবার বইমেলায় বাংলাদেশের কোন এক প্রকাশক, বিক্রি হয় নাই। সবাই বুঝে ফেলছে যে তাদের কিছু হয় না। 

তবে লেখকদের স্পেস দিতে হবে, লেখকরা সাহিত্যের অংশ। সে স্পেস আছেও। 

তার জন্য ভারতের লোকেদের উচিত তাদের সাহিত্যের ভাষা তৈরী করতে শিখে ফেলা। তারপর বই লিখে তারা বাংলাদেশের প্রকাশকদের পিছে পিছে ঘুরঘুর করতে পারে। প্রকাশক রাজী হলে তারা বই প্রকাশ করতে পারে, সে সুযোগ সবসময়ই আছে। আবার টাকা পয়সা খরচ করেও করতে পারে তারা, বাংলাদেশের প্রকাশকরাও একটু ওইরকম আছে। 

কিন্তু ভারতীয় দোকানদারদের অমর একুশে বইমেলায় স্পেস দেয়া যাবে না।